মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল ক্বদরের মর্তবা

হাফেজ ফজলুল্লাহ মোহাম্মদ নোমান—শবে কদর অর্থ হলো মর্যাদাপূর্ণ রাত বা ভাগ্যরজনী। শবে কদরের আরবি হলো লাইলাতুল কদর তথা সম্মানিত রাত। লাইলাতুল কদরের রাত হচ্ছে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত। যে রাতে পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছে, সে রাতই লাইলাতুল কদর। আল্লাহতায়ালা বলেন: [সুরা আল ক্বাদরঃ ] [আয়াত নং ১] إِنَّآ أَنزَلْنٰهُ فِى لَيْلَةِ الْقَدْرِ অর্থঃ আমি একে নাযিল করেছি শবে-কদরে। [আয়াত নং ২] وَمَآ أَدْرٰىكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ অর্থঃ শবে-কদর সমন্ধে আপনি কি জানেন? [আয়াত নং ৩] لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ অর্থঃ শবে-কদর হল এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। [ আয়াত নং ৪] تَنَزَّلُ الْمَلٰٓئِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمْرٍ অর্থঃ এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে। [ আয়াত নং ৫] سَلٰمٌ هِىَ حَتّٰى مَطْلَعِ الْفَجْرِ অর্থঃ এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। পবিত্র কুরআনুল কারিম নাযিলের মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই রাতকে হাজারের মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ উত্তম ও মহা সম্মানিত রাত হিসেবে আমারদের জন্য দান করেছেন। প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ দশকের রাতগুলোর মধ্যে কোনো এক বিজোড় রাত হলো ভাগ্য নির্ধারণ বা লাইলাতুল কদরের রাত। কুরআন নাযিলের কারণে মর্যাদার এ রাতের কথা উল্লেখ করার পর যে মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে সে মাসের কথাও আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে উল্লেখ করেছেন এভাবে- [সুরা আল বাকারাঃ আয়াত নং ১৮৫] شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِىٓ أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْءَانُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنٰتٍ مِّنَ الْهُدٰى وَالْفُرْقَانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلٰى مَا هَدٰىكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ অর্থঃ রমযান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোযা রাখবে। আর যে লোক অসুস্থ কিংবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে সে অন্য দিনে গণনা পূরণ করবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন না যাতে তোমরা গণনা পূরণ কর এবং তোমাদের হেদায়েত দান করার দরুন আল্লাহ তা’আলার মহত্ত্ব বর্ণনা কর, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর। ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) প্রমুখ সাহাবী হতে বর্ণিত আছে যে, লাইলাতুল ক্বদরে সমগ্র কুরআন লাওহে মাহফুয হতে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়েছে। তারপর ঘটনা অনুযায়ী দীর্ঘ তেইশ বছরে ধীরে ধীরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর অবতীর্ণ হয়েছে। তারপর আল্লাহ তা'আলা লাইলাতুল ক্বদরে শান শাওকত ও বৈশিষ্ট্য إِنَّا أَنزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ : বারাকাত হল এই যে, এ রাতে কুরআনুম মাজীদের মত মহান নি'আমাত নাযিল হয়েছে। ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) প্রমুখ সাহাবী হতে বর্ণিত আছে যে, লাইলাতুল কাদরে সমগ্র কুরআন লাওহে মাহফুয হতে প্রথম আসমানে অবতীর্ণ হয়েছে। তারপর ঘটনা অনুযায়ী দীর্ঘ তেইশ বছরে ধীরে ধীরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন : وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ. لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ ألف شهر হে নাবী! লাইলাতুল কার কি তা কি তোমার জানা আছে? লাইলাতুল কাদ্র হচ্ছে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (তাবারী ২৪/৫৩১, ৫৩২; কুরতুবী ২০/১২৩) মুসনাদ আহমাদে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রামাযান মাস এসে গেলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন '(হে জনমণ্ডলী!) তোমাদের উপর রামাযান মাস এসে পড়েছে। এ মাস খুবই বারাকাত পূর্ণ বা কল্যাণময়। আল্লাহ তা'আলা তোমাদের উপর এ মাসের সিয়াম ফারয করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেয়া হয়। আর শাইতানদেরকে বন্দী করে রাখা হয়। এ মাসে এমন একটি রাত রয়েছে যে রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ মাসের কল্যাণ হতে যে ব্যক্তি বঞ্চিত হয় সে প্রকৃতই হতভাগা।' ইমাম নাসাঈও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। (আহমাদ ২/২৩০, নাসাঈ ৪/১২৯) ক্বদরের রাতে ইবাদাত করার সাওয়াব এক হাজার মাস অপেক্ষা অধিক হওয়ার ব্যাপারে সহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে ও সাওয়াবের নিয়াতে কদরের রাতে ইবাদাত বন্দেগী করে, তার পূর্বাপর সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়।' (ফাতহুল বারী ৪/২৯৪, মুসলিম ১/৫২৩) ★ক্বদরের রাতে মালাইকার উপস্থিতি এবং উত্তম বিষয়ের অবতরণ এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেন: تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ এ রাতের বারাকাতের আধিক্যের কারণে এ রাত্রে বহু সংখ্যক মালাইকা অবতীর্ণ হন। এমনিতেই মালাইকা সকল বারাকাত ও রাহমাতের সাথেই অবর্তীণ হন। যেমন কুরআন তিলাওয়াতের সময়ে অবতীর্ণ হন, যিকিরের মাজলিস ঘিরে ফেলেন এবং দীনী ইলম বা বিদ্যা শিক্ষার্থীদের জন্য সানন্দে নিজেদের পাখা বিছিয়ে দেন ও তাদের প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন করেন। রূহ্ দ্বারা এখানে জিবরাঈলকে (আঃ) বুঝানো হয়েছে। এ আয়াতে অন্যান্য মালাইকা থেকে আলাদা করে উল্লেখ করার কারণ এই যে, অন্যান্য মালাইকা থেকে তার যে ভিন্ন মর্যাদা রয়েছে আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলা তা প্রকাশ করে দিলেন। পরবর্তী আয়াতাংশ من كُلِّ أَمْر এর ব্যাখ্যায় মুজাহিদ (রহঃ) বলেন যে, সব কিছুর উপর তখন শান্তি বর্ষিত হয়। অতঃপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেন: سَلَامٌ هِي ... কাদরের রাত আগাগোড়াই শান্তির রাত। সাঈদ ইব্‌ন মানসুর (রহঃ) বলেন : ঈসা ইব্‌ন ইউনুস (রহঃ) আমাদেরকে বলেছেন যে, আমাশ (রহঃ) আমাদেরকে বলেছেন যে, মুজাহিদ (রহঃ( سَلَامٌ هي এ আয়

মার্চ 28, 2025 - 20:49
 0  7
মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল ক্বদরের মর্তবা

আপনার অনুভূতি কী?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow