কয়রায় পরিবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ
কয়রা(খুলনা) প্রতিনিধি—পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন সড়ক পথে যাতায়াতকারী ঘরমুখো মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে দূর্যোগপ্রবন এলাকা খুলনার কয়রায় আনন্দ পরিবাহন নামের একটি বাস মালিক যাত্রিদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়া ছাড়া দ্বিগুন টাকা নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । যেটা কর্মস্থাল ফেরত শহরমুখী নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আর্থিক চাঁপে পরিনত হচ্ছে। যানা গেছে, কয়রা থেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য সরাসরি আনন্দ পরিবাহন ও টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস নামের দুটি পরিবাহন যাতায়াত করে। অন্য সময়ে আনন্দ পরিবাহন (নন এসি) কয়রা থেকে ঢাকা পর্যন্ত ৬০০-৭০০ টাকা ভাড়া নেয় যাত্রিদের কাছ থেকে, কিন্তু ঈদের সময়ে মালিক পক্ষ সেটাকে দ্বিগুন বাড়িয়ে এক হাজার ২০০-৩০০ টাকা করেছে। অন্যদিকে টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস(এসি) পরিবাহন রেগুলার ৯০০ টাকা নিলেও এবার ঈদে তারা ১০০ টাকা বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করেছে। কয়রাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল উপজেলা সদর থেকে সরাসরি পরিবহনের মাধ্যমে ঢাকা আসা-যাওয়া জন্য। কিন্তু পাইকগাছা পরিবাহন স্ট্যান্ড কমিটির বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতায় সেটা হয়ে ওঠেনি। পাইকগাছা থেকে পরিবহন মালিকরা কোনভাবেই কয়রা থেকে কাউন্টারের মাধ্যমে সরাসরি ঢাকায় আসা-যাওয়ায় রাজি হয়নি। তবে গত ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর কয়রা থেকে সরাসরি ঢাকা আসা-যাওয়ার জন্য বিআরটিসি (এসি) পরিবাহন সার্ভিস চালু করে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ। তার কিছুদিন পর আনন্দ পরিবহন নামের একটি পরিবহন ও টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস নামের একটি পরিবহন কয়রা থেকে সরাসরি ঢাকায় যাত্রি নিয়ে যাতায়াত শুরু করে। তবে প্রথমে বিআরটিসি বাস সার্ভিস কয়রা থেকে ঢাকা একক ভাবে চলার কারণে চাহিদা অনুযায়ী তাদের যাত্রী সংখ্যার ঠিক ছিল । কিন্তু পরবর্তীতে কয়রা টু ঢাকা আরো দুটি পরিবাহন সংযুক্ত হয়ওয়া যাত্রি ভাগাভাগির করণে বিআরটিসি পরিবাহন টি যাত্রী সংকটে বন্ধ করতে বাধ্য হয় কতৃপক্ষ। সেই সুযোগে কয়রা থেকে চালু হওয়া আনন্দ পরিবাহন ও টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস যাত্রিদের কাছ থেকে নিজেদের ইচ্ছা মত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। যাত্রিরা যানায়,ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে কোন পূর্ব ঘোষনা অনুমোদন ছিলনা। কিন্ত পরিবাহন কতৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি কয়রায় ঈদ উদযাপন করতে আসা রবিউল ইসলাম যানায়, আমি আমার কর্মস্থল ঢাকয় ফিরে যাওয়ার জন্য আনন্দ পরিবাহন কয়রা কাউন্টারে যোগাযোগ করি ২টি টিকিটের জন্য কিন্তু ৬-৭,শ টাকার টিকিট ১২-১৩,শ টাকা দিতে হবে বলে তারা যানায়। কোন করণ ছাড়াই দ্বিগুন ভাড়া নেওয়া হয়েছে। টিকিট না করে ফিরে এসেছি। আরিফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুকে) পোষ্টের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেন, আমি ঢাকা থেকে কয়রা আসার জন্য আনন্দ পরিবাহনের কাউন্টারে গিয়েছিলাম তারা প্রতিটি টিকিটের মূল্য ১৩০০,শ টাকা করে চায়েছে কোন কম নয়। বাধ্য হয়ে ৯০০ টাকা দিয়ে পাইকগাছা পর্যন্ত আসি। বাকি পথ অনেক কষ্টে ভেঙে ভেঙে কয়রায় পৌছাতে হয়েছে। আনন্দ পরিবাহন কয়রা কাউন্টারে কর্মরত জাহিদ হাসানের কাছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি যানান, আমি সামান্য কর্মচারী মাত্র টিকিটের টাকা কম নেওয়ার ক্ষমতা আমার নাই। মালিক পক্ষ ভাড়া বাড়িয়েছে এখানে কম নেওয়ার কোন সুযোগ নাই। তাদের কাছে ১২০০টাকা করে প্রতিটি টিকিটের টাকা পাঠানো লাগে। আগে ৭০০ টাকা করে নিতাম এখন ঈদ উপলক্ষে ১২০০ টাকা নিচ্ছি। তারা যেভাবে নির্দেশনা দিচ্ছে আমকে সেভাবে কাজ করতে হচ্ছে। কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাস বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষটি যানা ছিলনা আপনার মাধ্যমে যেনেছি। এখনি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে

আপনার অনুভূতি কী?






