
সাংবাদিকতার বস্তুনিষ্ঠ প্রতিবেদন যে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশাসনিক উদ্যোগকে ত্বরান্বিত করতে পারে, কুড়িগ্রামের রৌমারীতে সুমি আক্তারকে দেশে ফিরিয়ে আনার ঘটনায় তার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে। ওমানে অসুস্থ অবস্থায় স্বামীর রেখে যাওয়ার অভিযোগ ওঠা সুমি আক্তার অবশেষে দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে গত ২০ আগস্ট দেশে ফিরেছেন। এর আগে গত ২০ জুলাই জাতীয় দৈনিক অভয়নগরে ‘ওমানে অসুস্থ স্ত্রীকে ফেলে দেশে ফেরার অভিযোগ, রৌমারীতে পরিবারে আহাজারি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনের পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আসে বলে জানায় পরিবার। পরবর্তী সময়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উদ্যোগে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
সুমি আক্তার কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বন্দবেড় ইউনিয়নের বাইটকামারী গ্রামের সাইদুর রহমানের মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে একই উপজেলার দক্ষিণ টাপুরচর গ্রামের ছাবের আলীর ছেলে বাবলু মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরে স্বামীর আহ্বানে সুমি ওমানে যান। সেখানে যাওয়ার কিছুদিন পর তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে তাকে অসুস্থ অবস্থায় রেখে বাবলু মিয়া দেশে ফিরে আসেন এবং এরপর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এতে মেয়ের জীবন নিয়ে গভীর উদ্বেগে পড়ে পরিবারটি।
দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর ২০ আগস্ট দেশে ফিরে পরিবারের কাছে পৌঁছান সুমি। তাকে ফিরে পেয়ে বাবা সাইদুর রহমান আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, মেয়ের জীবন নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন। সংবাদ প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের কারণে মেয়েকে দেশে ফিরে পেয়েছেন বলে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। স্থানীয় সচেতন মহলও ঘটনাটিকে সাংবাদিকতা ও প্রশাসনিক উদ্যোগের সমন্বয়ে মানবিক সহায়তার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জাতীয় দৈনিক অভয়নগর, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।