August 31, 2026, 5:28 am

তিন মাসের অবরোধে সুন্দরবনে ফিরেছে প্রাণ-প্রকৃতির সজীবতা

মিজানুর রহমান সাগর

মো. মিজানুর রহমান সাগর, বাগেরহাট প্রতিনিধি
সুন্দরবনে টানা তিন মাস মানুষের প্রবেশ ও বনজ সম্পদ আহরণ বন্ধ থাকায় প্রাণ-প্রকৃতিতে ফিরেছে সজীবতা। মানুষের আনাগোনা কম থাকায় নির্ভয়ে বিচরণ করছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, কুমির, বানর, বন্য শূকর ও লাল কাঁকড়াসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী। একই সঙ্গে বন বিভাগের দাবি, বিভিন্ন খাল ও নদীতে মাছের উপস্থিতি বেড়েছে এবং সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়া, বাইনসহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের ঘনত্বও বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্যপ্রাণী, জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের প্রজনন সুরক্ষায় তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা আগামী ১ সেপ্টেম্বর শেষ হচ্ছে। এরপর পর্যটক, জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জন্য আবারও সুন্দরবনে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।
অবরোধ চলাকালে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় একাধিকবার বাঘের উপস্থিতি দেখা গেছে। খালের পাড়ে বাঘের বিচরণ, কুমিরের শিকার ধরার দৃশ্য এবং বনের বিভিন্ন স্থানে হরিণের পাল, বানর, বন্য শূকর ও লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ নজর কেড়েছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অবরোধের সময় বন অপরাধ ঠেকাতে টহলও বাড়ানো হয়। স্বাভাবিক সময়ে মাসে সাত দিন স্মার্ট পেট্রোলিং করা হলেও এ সময়ে তা বাড়িয়ে ২০ দিন করা হয়। পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শরিফুল ইসলাম জানান, অবরোধকালে বন অপরাধ কমেছে এবং বন্যপ্রাণীর বিচরণ ও খালে মাছের উপস্থিতি বেড়েছে। বনজীবীরাও দীর্ঘ বিরতির পর আবার বনে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছেন। নৌকা ও জাল মেরামত এবং প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহ শেষ করেছেন অনেকে।
তবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরও সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। শরণখোলার মৌয়াল জীবন কর্মকার ও জেলে আলাল মোড়ল জানান, সুন্দরবন তাদের জীবিকার প্রধান উৎস হলেও বন ভালো থাকলেই তাদের জীবিকা নিরাপদ থাকবে। পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বন্যপ্রাণী ও মাছের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয় এবং এ সময়ে টহল জোরদার করা হয়। সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগে ১৪টি পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। পাশাপাশি প্রায় অর্ধলাখ বনজীবী বিভিন্ন সময়ে অনুমতি নিয়ে বন থেকে মাছ, গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ করেন। ২০২১ সাল থেকে প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়ে আসছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের অবরোধে পাওয়া সুফল ধরে রাখতে ভবিষ্যতেও কার্যকর নজরদারি ও সংরক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি।



ফেসবুক কর্নার