September 2, 2026, 6:49 am

স্বজনপ্রীতি-অনিয়মের অভিযোগে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম প্রতিনিধ

প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কাঙ্ক্ষিত প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক ভিত্তি পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কৃষি ও ফিশারিজ—দুটি অনুষদে শিক্ষা কার্যক্রম চললেও কোনো স্থায়ী শিক্ষক নেই। চুক্তিভিত্তিক ও খণ্ডকালীন শিক্ষকদের মাধ্যমে পাঠদান পরিচালিত হচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্থায়ী নিয়োগের জন্য ৪০টি পদ অনুমোদিত হলেও গত দুই বছরে স্থায়ী নিয়োগ হয়নি বলে জানা গেছে। এর মধ্যে উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত রেখে তাঁর পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনদের বিভিন্ন পদে সাময়িকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব বিষয়ে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপাচার্যের বোনের ছেলে আতিকুর রহমানকে পিএস টু ভিসি (সেকশন অফিসার), শ্যালক আব্দুল্লাহ সোহাগকে সেকশন অফিসার (সিকিউরিটি ও পরিকল্পনা), বোনের মেয়ে রেজবিন আক্তারকে কম্পিউটার টাইপিস্ট এবং বোনপুত্র মোস্তফা সরকারকে সেকশন অফিসার (পরীক্ষা বিভাগ) পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আতিকুর রহমান ও সহকারী স্টোর কিপার পদে নিয়োগ পাওয়া রেজভীন বেগমের চাকরির বয়সসীমা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া মাস্টার্স সম্পন্নের আগে মো. আহসানুল হক ও মরিয়ম আক্তারকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন নথিতে প্রশাসনিক ও টেন্ডার কার্যক্রমে আব্দুল্লাহ সোহাগ ও আতিকুর রহমানের প্রভাব থাকার অভিযোগও উঠেছে। নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক; তবে এর কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।
ক্যাম্পাসে উপাচার্যের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। তিনি অধিকাংশ সময় ঢাকায় অবস্থান করেন বলে অভিযোগ থাকলেও অধ্যাপক রাশেদুল ইসলাম বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি ও ইউজিসি-সংক্রান্ত কাজে তাঁকে ঢাকায় থাকতে হয় এবং কোনো নিকটাত্মীয়কে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তাঁর দাবি, বর্তমানে কর্মরতরা যোগ্যতার ভিত্তিতে সাময়িকভাবে নিয়োজিত এবং শিগগিরই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্থায়ী নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আতিকুর রহমানও আত্মীয়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কুড়িগ্রাম জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক লিয়াকত আলী বলেন, স্বজনপ্রীতি, নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উদ্বেগজনক। তিনি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজন হলে দুদক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরেজমিন তদন্তের দাবি জানান।



ফেসবুক কর্নার