October 20, 2026, 10:41 am
শিরোনাম :

পরিচয় বদলে নতুন আশ্রয়, উঠছে পুরোনো নেটওয়ার্কের প্রশ্ন

সাদমান হাসান

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে অতীতে যুক্ত ব্যক্তিদের বর্তমান অবস্থান নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কেউ দেশ ছেড়েছেন, কেউ আত্মগোপনে রয়েছেন—এমন নানা তথ্যের পাশাপাশি নতুন রাজনৈতিক সংগঠন, সামাজিক প্ল্যাটফর্ম, পেশাজীবী সংগঠন কিংবা ভিন্ন পেশায় কিছু ব্যক্তির সক্রিয় হওয়ার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে এসব আলোচনার বড় অংশ এখনো যাচাই করা হয়নি। ফলে কারও রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনকে অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং কারা নতুন পরিচয়ে সক্রিয় হয়েছেন এবং তাদের অতীত ভূমিকা কী ছিল, তা নিরপেক্ষভাবে নথি ও তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।
রাজধানীর অনানুষ্ঠানিক পরিবহন খাত, নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম এবং কিশোর গ্যাং নিয়েও একই ধরনের প্রশ্ন উঠছে। বেকারত্ব ও জীবিকার প্রয়োজনে অনেক মানুষ অটোরিকশাসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। তাই কোনো পেশায় যুক্ত ব্যক্তিকে শুধু রাজনৈতিক সন্দেহের ভিত্তিতে চিহ্নিত করা গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে কারও রাজনৈতিক বা অপরাধী নেটওয়ার্কের সম্পর্ক রয়েছে—এমন দাবি প্রমাণ ছাড়া করা উচিত নয়। তবে এসব গোষ্ঠীর অর্থের উৎস, যোগাযোগ, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অপরাধের ধরন নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান প্রয়োজন। রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও মামলা, অপরাধের রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করাই হতে পারে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর কোনো নেটওয়ার্কের সদস্যরা ভিন্নভাবে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন। কেউ প্রকাশ্যে থাকেন, কেউ আত্মগোপনে যান, আবার কেউ নতুন পরিচয়ে সামাজিক বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারেন। তবে পরিচয় পরিবর্তন নিজেই অপরাধ নয়; অপরাধের দায় এড়াতে পরিচয় পরিবর্তনের প্রমাণ থাকলেই বিষয়টি আইনি গুরুত্ব পায়। তাই রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত প্রতিশোধ বা গুজবের পরিবর্তে তথ্য, নথি ও প্রমাণের ভিত্তিতে অতীত যাচাই করা। কে কোন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, কার বিরুদ্ধে মামলা বা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এবং সেসবের বর্তমান অবস্থা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের মাধ্যমে বের করা জরুরি। একই মানদণ্ড সবার জন্য প্রযোজ্য হলে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে কোনো অপরাধী নেটওয়ার্কের পুনর্গঠনের সুযোগ যেমন কমবে, তেমনি নিরপরাধ ব্যক্তিরাও অযথা হয়রানি থেকে সুরক্ষা পাবেন।



ফেসবুক কর্নার