
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রুক্ষ্মীলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ, ব্যাংক হিসাব ও ব্যবসায়িক রেকর্ডসংক্রান্ত তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। পারস্পরিক আইনি সহায়তা বা মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্টের (এমএলএআর) মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এ সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীর অপরাধলব্ধ সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করার উদ্দেশ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল অথরিটির অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের কাছে আইনি সহায়তা চেয়েছিল দুদক। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এফবিআই তাদের তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট রেকর্ড কমিশনে পাঠিয়েছে।
দুদকের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সাবেক মুখ্য সচিব এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগকে আদানি পাওয়ার লিমিটেড ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগসংক্রান্ত চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে। একইভাবে ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিমের বিরুদ্ধে জমি দখল, নিয়োগ ও দলীয় পদ বাণিজ্য এবং অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক। তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগটি নোয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তদন্তাধীন একটি মামলার সঙ্গে যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ওয়াকিটকি কেনায় অনিয়ম ও রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের অভিযোগে নতুন করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। এরই মধ্যে অনুসন্ধানকারী ও তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয় এবং তারা একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সনদ ব্যবহার করে। অন্যান্য সরকারি সংস্থার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে ওয়াকিটকি কেনার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় ও ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে বিশেষ এনফোর্সমেন্ট অভিযান চালানো হয়েছিল। এছাড়া নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, নাসরিন ইসলাম ও ওয়ান প্রোপার্টি লিমিটেডের বিরুদ্ধে আইল অব ম্যান কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো পারস্পরিক আইনি সহায়তার আবেদন বাস্তবায়ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সেখানে থাকা সম্পত্তি ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করা হয়েছে বলে দুদককে জানানো হয়েছে।