September 12, 2026, 4:36 am

পুলকের পকেটে পাঁচ নোট, পাওনা নিয়ে প্রশ্ন

তরিকুল ইসলাম, ক্রাইম রিপোর্টার, বরিশাল

সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুর পর তার পকেট থেকে পাঁচটি কথিত সুইসাইড নোট উদ্ধারের বিষয়টি সামনে এসেছে। এর মধ্যে একটি নোটে সাবেক কর্মস্থল সমকালের কাছে পাওনা অর্থ আদায় করে তার স্ত্রীকে দেওয়ার অনুরোধ ছিল বলে জানা গেছে। নোটে সুমনকে উদ্দেশ করে লেখা হয়েছে—পুলকের পাওনা টাকা আদায় করে যেন তার ‘বৌদিকে’ দেওয়া হয়। তবে নোটগুলোর লেখক ও বিষয়বস্তু সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন। এরই মধ্যে পুলকের মৃত্যুর ঘটনায় তার সাবেক কর্মস্থলের কাছে কোনো পাওনা ছিল কি না, থাকলে সেই অর্থের পরিমাণ কত এবং তা পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে কী উদ্যোগ নেওয়া হবে—এসব প্রশ্ন সামনে এসেছে।
একজন সাংবাদিকের মৃত্যুর পর তার শ্রমের বিনিময়ে প্রাপ্য অর্থ, অধিকার এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠা বিষয়টিকে আরও বেদনাদায়ক করে তুলেছে। পুলকের মৃত্যুর ঘটনায় সহকর্মী ও সাংবাদিক সমাজে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তার রেখে যাওয়া কথিত নোটে পাওনা অর্থের প্রসঙ্গ থাকায় বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাইয়ের দাবি উঠেছে। কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে তার বেতন, সম্মানী বা অন্য কোনো বৈধ পাওনা থেকে থাকলে সেটির হিসাব স্বচ্ছভাবে নির্ধারণ এবং আইনানুগভাবে পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে পুলকের মৃত্যুর কারণ বা পাওনা অর্থের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ছাড়া দেওয়া উচিত নয়।
পুলকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের ন্যায্য পাওনা, পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তার বিষয়গুলোও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একজন সাংবাদিকের দীর্ঘদিনের শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা পেশাগত ন্যায়বিচারের অংশ। তার রেখে যাওয়া কথিত নোটে যে প্রশ্নগুলো উঠে এসেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীলভাবে উত্তর খোঁজা প্রয়োজন। বিশেষ করে সাবেক কর্মস্থলের কাছে কোনো পাওনা থাকলে তার প্রকৃত হিসাব নির্ধারণ করে পরিবারের সঙ্গে বিষয়টি পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। পুলকের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বরিশালসহ দেশের সাংবাদিক সমাজের জন্যও গভীর শোকের ঘটনা। তার মৃত্যুর কারণ এবং নোটগুলোর সত্যতা উদঘাটনের পাশাপাশি সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।



ফেসবুক কর্নার