September 12, 2026, 6:38 pm

বিশ্বাস-ত্যাগেই মৌসুমীর সঙ্গে সম্পর্ক টিকে আছে

অভয়নগর প্রতিবেদক

ঢাকাই চলচ্চিত্রের তারকা দম্পতি মৌসুমী ও ওমর সানীর দাম্পত্য জীবনের পথচলা তিন দশক পেরিয়েছে। ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ চুপিসারে বিয়ের পর সংসার, সন্তান, অভিমান ও বিচ্ছেদের নানা গুঞ্জন নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছেন তারা। তবে এসব আলোচনা পেছনে ফেলে এখনো একসঙ্গে আছেন এই তারকা দম্পতি। সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওমর সানী জানিয়েছেন, স্ত্রী মৌসুমীর যত্নশীল স্বভাব ও জেদ তাকে এখনো আকর্ষণ করে। দুজনের স্বভাবের পার্থক্যের কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, মৌসুমী অনেক কথা নিজের মধ্যে জমিয়ে রাখতে পারেন, কিন্তু তিনি তা পারেন না। নিজের ধৈর্যও স্ত্রীর তুলনায় কিছুটা কম বলে জানান সানী।
স্ত্রী হিসেবে মৌসুমীর সবচেয়ে বড় পরিচয়ের জায়গা হিসেবে সন্তান ফারদীন ও ফাইজার প্রসঙ্গ সামনে এনেছেন ওমর সানী। সন্তানদের প্রতি স্ত্রীর যত্ন ও ভাবনাকে তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। পারিবারিক জীবনের ছোট ছোট ঘটনাও তাদের সম্পর্কের উষ্ণতা ধরে রেখেছে বলে জানান তিনি। খাবারের টেবিলে পরিবারের সদস্যদের জন্য আলাদা করে মাংস তুলে রাখার মতো ঘটনাও তার কাছে পারিবারিক আনন্দের অংশ। দীর্ঘ দাম্পত্যে বিচ্ছেদের গুঞ্জন প্রসঙ্গে সানী বলেন, স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই ভুল হতে পারে। তবে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত লেখালেখি অনেক সময় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তার মতে, এসব আলোচনার বাইরে তাদের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হলো বিশ্বাস, ত্যাগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া।
ওমর সানীর ভাষ্য অনুযায়ী, মৌসুমীর বকাঝকা, পরামর্শ ও যত্নও তাদের সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ। মাঝেমধ্যে তিনি কোথায় কী করছেন বা কী হারাচ্ছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন; আবার কিছুক্ষণ পর প্রয়োজনের কথা জানতে চান। সানীর কাছে স্ত্রী তাই স্বস্তির একজন মানুষ। তাদের সম্পর্কের শুরু হয় চলচ্চিত্র অঙ্গনের কাজের সূত্রে। ‘দোলা’ ছবিতে প্রথমবার জুটি হওয়ার পর সময়ের সঙ্গে ভালো লাগা ভালোবাসায় রূপ নেয়। এরপর ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে হয় এবং পরবর্তী সময়ে আয়োজন করা হয় বিবাহোত্তর সংবর্ধনার। দীর্ঘ এই পথচলা ও নানা গুঞ্জনের মধ্যেও সম্পর্ক টিকে থাকার রহস্য হিসেবে বিশ্বাস, ত্যাগ, বোঝাপড়া ও ভালোবাসাকেই গুরুত্ব দিয়েছেন ওমর সানী।



ফেসবুক কর্নার