September 12, 2026, 6:33 am

পদ্মার পানি বাড়ায় চাপাইনবয়াবগঞ্জে আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দী

সানাউল্লাহ সুমন

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, দুর্লভপুর ও মনাকষা ইউনিয়নের প্রায় আড়াই হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। নিম্নাঞ্চলের বহু বসতঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার বসতবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে। একই সঙ্গে প্লাবিত এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্যানিটেশন সংকট।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পদ্মার পানি ২১ দশমিক ৭৬ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা বিপৎসীমা ২২ দশমিক ০৫ মিটারের ২৯ সেন্টিমিটার নিচে। গত পাঁচ দিনে নদীটির পানি বেড়েছে ৪৪ সেন্টিমিটার। অন্যদিকে মহানন্দা নদীর খালঘাট পয়েন্টে পানি ১৯ দশমিক ৪৩ মিটার এবং পুনর্ভবা নদীর রহনপুর পয়েন্টে ১৯ দশমিক ৪৬ মিটার উচ্চতায় রয়েছে। পদ্মার পানি বৃদ্ধিতে বিশরশিয়া, গমের চর, গাইপাড়া, নামো জগন্নাথপুর, নামো পিয়ালীমারী, হাসানপুর, চর সিংনগর, হঠাৎপাড়া, পারচৌকা নতুনপাড়া ও নতুন রাঘরবাটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা লালমোহাম্মদ ও তরিকুল আলম জানান, নদীভাঙনের পর নতুন জায়গায় ঘর তুললেও আবারও পানির কারণে বসতভিটা হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, পানিবন্দী পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং দুর্গতদের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব জানান, পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল পর্যন্ত পানি বাড়তে পারে, এরপর কমার সম্ভাবনা রয়েছে। পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে থাকায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই বলেও তিনি জানান। তবে প্লাবিত এলাকার মানুষ দ্রুত পানি কমার পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি ও ত্রাণ সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন।



ফেসবুক কর্নার