
ভারতের কেরালা রাজ্যের এরনাকুলাম জেলায় কোচি বিমানবন্দরের কাছে দ্রুতগতির মিনি কুপার গাড়ির ধাক্কায় স্কুটারে থাকা তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। রোববার রাত ২টার দিকে নেদুম্বাসেরিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন দেবিকা, গোপিকা ও ইজাজ। তাঁদের মধ্যে দেবিকার বাড়ি ওয়েনাড, গোপিকার পালাক্কাড এবং ইজাজের বাড়ি কর্ণাটকে। তাঁরা তিনজনই ত্রিক্কাকারায় কর্মরত ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ১৯ বছর বয়সী গাড়িচালক সুহাইল সাজিভকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ‘বাবা সামলে নেবে’ বলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ জানায়, কাছের একটি দোকানে চা পান শেষে স্কুটারে করে বাড়ি ফেরার পথে তাঁদের গাড়িটি ধাক্কা দেয়। স্থানীয়রা আহত তিনজনকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসকেরা তাঁদের বাঁচাতে পারেননি। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে সুহাইল দুর্ঘটনার আগে অ্যালকোহল পান করার কথা স্বীকার করেছেন; তবে তাঁর দাবি, তিনি শুধু বিয়ার পান করেছিলেন। চালক মদ্যপ বা অন্য কোনো নেশাজাতীয় পদার্থের প্রভাবে ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হতে রক্তসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গাড়ির ভেতরে নেশাজাতীয় পদার্থ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক পরীক্ষাও চলছে বলে জানিয়েছেন এরনাকুলাম গ্রামীণ পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট কে এস সুদর্শন।
এদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য নেওয়ার পর নিহত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বন্ধু চালকের ওপর হামলা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানায়, হাসপাতাল থেকে বাইরে নেওয়ার সময় পেছন দিক থেকে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করে। দুর্ঘটনার ভিডিওতে গাড়িটির সঙ্গে স্কুটারের সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, চালকের রক্ত পরীক্ষার প্রতিবেদন ও গাড়ির ফরেনসিক পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় টহল ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারের কথাও জানিয়েছে পুলিশ।