
নব্বইয়ের দশকের রোমান্টিক গান, মায়াবী কণ্ঠ ও আবেগঘন সুরের জন্য শ্রোতাদের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী কুমার শানু। আজ ২০ অক্টোবর তাঁর জন্মদিন। ১৯৫৭ সালের এই দিনে কলকাতায় জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর প্রকৃত নাম কেদারনাথ ভট্টাচার্য। সংগীতশিল্পী ও সুরকার বাবা পশুপতি ভট্টাচার্যের কাছেই তাঁর সংগীতের হাতেখড়ি। পরে নিজের প্রতিভা ও সাধনায় হিন্দি ও বাংলা গানের জগতে প্রতিষ্ঠা পান তিনি।
১৯৯০ সালে মুক্তি পাওয়া আশিকি চলচ্চিত্রের গান তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনে দেয়। এরপর সাজন, দিওয়ানা, বাজিগর, ১৯৪২: আ লাভ স্টোরি এবং \*দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে\*সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে তাঁর গাওয়া গান শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়। হিন্দি গানের পাশাপাশি বাংলা আধুনিক ও চলচ্চিত্রের গানেও রেখেছেন উল্লেখযোগ্য অবদান। স্বতন্ত্র গায়কির কারণে দুই বাংলার সংগীতপ্রেমীদের কাছেও তাঁর জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিন ধরে অটুট রয়েছে।
কুমার শানু ১৯৯৩ সালে এক দিনে ২৮টি গান রেকর্ড করে গিনেস বিশ্ব রেকর্ডে নাম লেখান। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ পুরুষ নেপথ্য গায়কের সম্মান অর্জন করেন তিনি। সংগীতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৯ সালে তাঁকে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী দেওয়া হয়। সময়ের সঙ্গে সংগীতের ধরন ও শ্রোতাদের পছন্দ বদলালেও তাঁর গাওয়া প্রেম, বিরহ ও আবেগের গান আজও শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়। তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবন উপমহাদেশের জনপ্রিয় সংগীতের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।