
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজের দুর্বল অবস্থান ঢাকতে ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিএনপি নেতা গাজী শাহ আলম পরিকল্পিতভাবে ব্যানার কাটা নাটক সাজিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে তার বিরুদ্ধে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সাথে যোগসাজশ, জমি দখল, চাঁদাবাজি ও ৫ আগস্ট-পরবর্তী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নানা বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে কৈখালী ইউনিয়নের অন্যান্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মতো শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কৈখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী গাজী শাহ আলমও শুভেচ্ছা ব্যানার টানান। গত ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাতে যাদার বাজার সংলগ্ন এলাকায় বিএনপি অফিসের সামনে থাকা তার ব্যানারটি কেটে ফেলে রাখা হয়। ঘটনাটিকে পুঁজি করে গাজী শাহ আলম একটি স্বার্থান্বেষী মহলকে দায়ী করে বক্তব্য দিলে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি মূলত ঠাকুর ঘরে কেরে, আমি তো কলা খাইনি প্রবাদের মতো। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে নিজের নড়বড়ে ও দুর্বল অবস্থান অনুধাবন করতে পেরে রাজনৈতিক ফায়দা লোটা এবং নিজেকে আদর্শবান ও ভিকটিম হিসেবে জাহির করার জন্য তিনি নিজের লোকজনকে দিয়ে ব্যানার কাটিয়ে অন্য দলের বা প্রতিপক্ষের ওপর দোষ চাপানোর হীন পরিকল্পনা করেছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির ঘোষিত ৩১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে গাজী শাহ আলমের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ পাওয়া নিয়ে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী শাসনামলে সাতক্ষীরা-৪ আসনের বিতর্কিত সাবেক সংসদ সদস্য জগলুল হায়দারের নিকটাত্মীয় হওয়ার সুবাদে গাজী শাহ আলম প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা তো দূরের কথা, বরং তিনি আওয়ামী ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় জমি দখল, চাঁদাবাজি ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে গাজী শাহ আলম রাতারাতি আওয়ামী লীগের পরিচয় বদলে নিজেকে বিএনপির নীতিবান নেতা হিসেবে জাহির করতে শুরু করেন। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা জেলা জাসাসের কমিটিতে স্থান পেলেও জমি দখল, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় বলে দলীয় নেতা-কর্মীরা নিশ্চিত করেছেন। ভয়াবহ তথ্য মিলেছে ৫ আগস্ট রাতে কৈখালী ইউনিয়নের পরানপুর বাজারে সংঘটিত লুটপাটের ঘটনায়। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কওছার আলী গাজী জানান, ওই রাতে তারসহ তিনটি দোকানে গাজী শাহ আলম ও তার বাহিনীর সদস্যরা প্রকাশ্য লুটপাট চালায়। পরবর্তীতে শ্যামনগর থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তৎকালীন ওসি তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগী সাতক্ষীরা সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও অদ্যাবধি কোনো প্রতিকার পাননি। স্থানীয়দের একাংশের মারাত্মক অভিযোগ, গাজী শাহ আলমের অধীনে একটি সুসংগঠিত সশস্ত্র বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। এই বাহিনীর মাধ্যমে তিনি সীমান্তপথে অবৈধ কারবার, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনা করছেন।এলাকাবাসীর দাবি, কোনো রাজনৈতিক আদর্শ না থাকা ও একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাই নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই নিজের হৃত ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার ও সিমপ্যাথি (সহানুভূতি) কুড়াতে তিনি ব্যানার কাটার মতো সস্তা নাটকের আশ্রয় নিয়েছেন। তবে সচেতন কৈখালীবাসী এই ধরনের চক্রান্ত ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
এবিষয়ে গাজী শাহ আলমের ব্যবহারিত মোবাইল নাম্বারে কল দিলে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি