
সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি সাহেদ আহমেদ আশিকের (৩৫) মরদেহ বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে লাশবাহী গাড়িতে করে মরদেহটি বাড়িতে আনা হয়। এ সময় সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী কাকলী বেগম ও দুই সন্তান। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনেরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়।
সাহেদের খালাতো ভাই মাসুম রানা জানান, গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান সাহেদ। সেখানে নেমে স্ত্রী কাকলী বেগমের সঙ্গে মুঠোফোনে শেষবার কথা বলেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পর বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে অন্যদের সঙ্গে সাহেদও নিহত হন। শুক্রবার সকালে পরিবারের সদস্যরা বিমানবন্দর থেকে তাঁর মরদেহ গ্রহণ করে গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সাহেদের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে বাড়ির উঠানে তাঁর দাদার কবরের পাশে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সাহেদের বাবা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে প্রবাসী। ঘটনার সময় তাঁর মা শাহেরা বেগম ওমরাহ পালনে সৌদি আরবে থাকলেও চার দিন আগে দেশে ফেরেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দুই সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্ত্রী কাকলী বেগম। স্বজন ও গ্রামবাসী তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে বাড়িতে ভিড় করছেন।