
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে মেশিন না থাকায় এবং প্রায় পাঁচ মাস ধরে আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন বিকল থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবা না পেয়ে তাঁদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। এতে চিকিৎসার ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে হাসপাতালটি চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল হলেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় তাঁরা বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়ছেন।
জানা গেছে, হাসপাতালটিতে দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে মেশিন নেই। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এক্স-রে করাতে হলে রোগীদের হাসপাতালের বাইরে যেতে হচ্ছে। অন্যদিকে, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি প্রায় পাঁচ মাস ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি, শিশু ও জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীরা। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেও বাইরে পরীক্ষা করাতে অতিরিক্ত টাকা খরচ করতে হচ্ছে তাঁদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি অচল বা অনুপস্থিত থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক। তাঁদের প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকলে সাধারণ মানুষ কীভাবে সরকারি হাসপাতাল থেকে পূর্ণাঙ্গ সেবা পাবেন?
এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান, এক্স-রে মেশিনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। তবে মেশিনটি কবে নাগাদ পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়। এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে মেশিন না থাকা এবং পাঁচ মাস ধরে আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন বিকল থাকায় রোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এক্স-রে মেশিন সরবরাহ, আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন মেরামত এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জামের নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।