
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) মো. রাশেদ খান বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ঝিনাইদহ সফরে জেলা প্রশাসন ও জেলা বিএনপির পৃথক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সফরে তিনি জেলার উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম, জনসেবা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করেন।
সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব হতে হবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম. এ. মজিদ, জেলা প্রশাসক নোমান হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন। এ সময় জেলার উন্নয়ন সম্ভাবনা, বিদ্যমান সমস্যা ও সেগুলোর সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়। রাশেদ খান সংশ্লিষ্টদের সমস্যার কথা শুনে পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দেন।
পরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুধীসমাজ ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক চর্চা, সামাজিক সম্প্রীতি ও গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম. এ. মজিদ এবং সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদুজ্জামান মনা। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাশেদ খান বলেন,
“নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলা হলেও বাস্তবে এনসিপি ভণ্ডামির রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, এনসিপি জামায়াতের প্রভাবেই পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, “রাজনীতির সুস্থ পরিবেশ নষ্টের চেষ্টা করা হলে তার যথাযথ জবাব দিতে আমরা প্রস্তুত। জামায়াত ও এনসিপির যেকোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র জনগণকে সঙ্গে নিয়ে মোকাবিলা করা হবে।”
সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন এবং স্থানীয় উন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন