
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ বাস্তবায়নে তথ্য সংগ্রহকারী (এনুমারেটর) ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগের ভাইভা পরীক্ষায় দেশের শিক্ষিত বেকারত্বের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে। সীমিতসংখ্যক পদের বিপরীতে অংশ নিয়েছেন সিএসই (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) গ্র্যাজুয়েট, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীসহ উচ্চশিক্ষিত অসংখ্য চাকরিপ্রার্থী।
ভাইভা কেন্দ্রে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন তরুণ-তরুণীরা একটি অস্থায়ী দায়িত্বভিত্তিক কাজের আশায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। অনেকের হাতে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা। স্থায়ী কর্মসংস্থানের অভাবে তারা এ ধরনের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান।
অংশগ্রহণকারী কয়েকজন প্রার্থী বলেন, উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়ায় তারা হতাশ। তারা আশা করেন, সরকারি নিয়োগে মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাদের মতে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগব্যবস্থা নিশ্চিত হলে প্রকৃত যোগ্যরাই দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি সব প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে একদিকে যোগ্য তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সেবার মানও উন্নত হবে।
বিশ্লেষকদের অভিমত, দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো মেধাবী তরুণ সমাজ। তাদের যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে শিক্ষিত বেকারত্ব কমবে, হতাশা দূর হবে এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে ওঠার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।