August 22, 2026, 12:17 pm
শিরোনাম :
সারে সরকারের ভর্তুকির অর্থে বছরে দুটি পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্ভব: কৃষি কর্মকর্তা রাজপথ থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব: রুহুল কবির রিজভীর  সড়কে দুই বছরের শিশুকে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ, দেয়ালজুড়ে ছেলের আঁকিবুঁকি, পরীর কাছে এটাই ‘ছেলেবেলা’ সীমান্তে ৫৯ বিজিবির অভিযানে নেশাজাতীয় সিরাপ জব্দ পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী, কাজের গতি বাড়াতেই সিদ্ধান্ত: শামা ওবায়েদ দৈনিক অভয়নগরে সংবাদ প্রকাশের পর ওমান থেকে দেশে ফিরলেন অসহায় সুমি জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানালেন নবনিযুক্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি রোদমাখা বিকেলের ছবি নিয়ে নেটিজেনদের নজর কাড়লেন স্পর্শিয়া

রাজপথ থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব: রুহুল কবির রিজভীর 

জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে রুহুল কবির রিজভী আহমেদের উত্থান কোনো পারিবারিক রাজনৈতিক উত্তরাধিকার কিংবা প্রশাসনিক পদ থেকে নয়; ছাত্রজীবনের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন, গ্রেপ্তার, কারাবরণ, দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে এসেছেন। ২০ আগস্ট ২০২৬ বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭(খ)(৬) ধারা অনুযায়ী জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত করা হয়। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পদটি শূন্য হলে রিজভীর ওপর এ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
রুহুল কবির রিজভীর পৈতৃক নিবাস কুড়িগ্রাম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় হন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাঁর ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা, ইতিহাস এবং আইন বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা উল্লেখ রয়েছে। ছাত্রজীবনের শুরুতে বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরবর্তী সময়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যোগ দেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক এবং পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৯ সালের রাকসু নির্বাচনে তিনি ভিপি নির্বাচিত হন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়েও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
ছাত্ররাজনীতির পর বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন রিজভী। বিশেষ করে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন, দলীয় কর্মসূচি ঘোষণা এবং রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরার কারণে তিনি বিএনপির দুঃসময়ের দৃশ্যমান মুখ হিসেবে পরিচিতি পান। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে একাধিকবার গ্রেপ্তার ও কারাবরণও করতে হয়েছে তাঁকে। ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশের অভিযানের পর তিনি গ্রেপ্তার হন এবং ২০২৩ সালের ২৫ এপ্রিল কারাগার থেকে মুক্তি পান। ২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন।
২০২৬ সালে তাঁর রাজনৈতিক দায়িত্ব দ্রুত বিস্তৃত হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করেন। এরপর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়। ১৫ আগস্ট তাঁকে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মনোনীত করা হয়। এর মাত্র পাঁচ দিন পর ২০ আগস্ট তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় কুড়িগ্রামের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও অটুট রয়েছে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান।
রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কুড়িগ্রাম শহরে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ দেখা যায়। বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ করা হয়। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল মোড় ও ঘোষপাড়ায় আয়োজিত মিষ্টি বিতরণ কর্মসূচিতে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবুর উদ্যোগে ঘোষপাড়ায় আয়োজিত কর্মসূচিতে জেলা বিএনপির সদস্য আলহাজ্ব ওমর ফারুক, আবু বক্কর সিদ্দিক, আশরাফ আলী, ইদ্রিস আলী, মাসুদ রানা বাবুসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।



ফেসবুক কর্নার