
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের রিলজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্বল্পদৈর্ঘ্য নাটক ‘দ্য মাফিয়া ডন হায়ার্ড মি অ্যাজ হিজ ওয়াইফ’। ছোট ছোট পর্বে প্রকাশিত নাটকটির প্রতিটি দৃশ্যের পর দর্শকদের মধ্যে পরবর্তী পর্ব দেখার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে নারী দর্শকদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য। মাফিয়া ডন, চুক্তির বিয়ে, প্রত্যাখ্যাত নারী ও শিশুকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নাটকটির গল্প। কেন্দ্রীয় চরিত্র নোরা স্বামীর কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর কাজের সন্ধানে গিয়ে একটি প্রাসাদে শিশুর দেখাশোনার চাকরি পান।
প্রাসাদের মালিক লুকা একজন মাফিয়া ডন। তাঁর ছেলে লিও দীর্ঘদিন ধরে খাওয়া ও ঘুম প্রায় ছেড়ে দিয়েছিল। নোরার সাক্ষাৎকারের শর্ত ছিল, তিনি শিশুটিকে অন্তত এক চামচ খাবার খাওয়াতে পারলে চাকরি পাবেন। নোরা শুধু এক চামচ নয়, পুরো প্লেট খাবার খাইয়ে শিশুটিকে শান্তিতে ঘুম পাড়ান। ছেলের জীবনে নোরার ইতিবাচক পরিবর্তন দেখে লুকা তাঁকে বাড়তি অর্থ, গাড়ি ও বেশি বেতনের প্রস্তাব দেন। পরে লিওর জন্য মায়ের প্রয়োজনের কথা তুলে ধরে নোরাকে চুক্তিভিত্তিক বিয়ের প্রস্তাব দেন। শুরুতে অনাগ্রহী থাকলেও শেষ পর্যন্ত নোরা রাজি হন। সময়ের সঙ্গে লিওর সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক তৈরি হয় এবং লুকার সঙ্গেও চুক্তির সম্পর্ক ধীরে ধীরে ভালোবাসায় রূপ নেয়।
নাটকটির জনপ্রিয়তার পেছনে মাফিয়া ডন, চুক্তির বিয়ে, প্রেম, শিশু, পারিবারিক আবেগ ও প্রত্যাখ্যাত নারী থেকে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার মতো পরিচিত গল্পের উপাদান কাজ করছে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নির্মাণ এবং রিলভিত্তিক ছোট পর্ব দর্শকদের নতুন ধরনের বিনোদন দিচ্ছে। একটি পর্ব শেষ হওয়ার পর পরবর্তী ঘটনায় কী ঘটবে, সেই কৌতূহল দর্শকদের ধরে রাখছে। নারী দর্শকদের আকর্ষণের ক্ষেত্রেও নাটকে যত্ন, সম্মান, নিরাপত্তা, দায়িত্বশীলতা ও নির্ভরযোগ্যতার মতো গুণের উপস্থাপনাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। তবে গল্পটি বাস্তবতার চেয়ে কল্পনানির্ভর। এর জনপ্রিয়তা মূলত দর্শকদের আবেগ, বিনোদন ও কল্পনার জগতের প্রতি আগ্রহকেই তুলে ধরছে।