September 9, 2026, 9:52 am

তিব্বতে ৫.৩ মাত্রার ভূমিকম্প, কাঁপল নেপাল

অভয়নগর প্রতিবেদক

তিব্বতে ৫ দশমিক ৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী নেপালের বিভিন্ন এলাকাতেও অনুভূত হয়েছে। ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্পন কেন্দ্র (ইএমএসসি) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে। তবে ভারতের জাতীয় ভূকম্পনবিদ্যা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ০। ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। হিমালয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের পর নতুন এই ভূমিকম্পে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, এর আগে তিব্বতে ৫ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর ভূমিকম্প সাধারণত ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি হওয়ায় তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হতে পারে। তবে আগের ভূমিকম্পেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। নতুন ভূমিকম্পের আগে থেকেই নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকা ভয়াবহ দুর্যোগের প্রভাব মোকাবিলা করছে। গত ২৬ আগস্ট আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ধসে ওই অঞ্চলের সড়ক, সেতু, ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ধসে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ৫ হাজার ৩২৬ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, তিব্বতে এ দুর্যোগে ৪৩ জনের মৃত্যু এবং ৫১৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে পড়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীও রয়েছেন। তবে ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে হিমবাহ ধস, ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার কারণ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ গলার হার বৃদ্ধি এবং এর ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ার বিষয়ে সতর্ক করে আসছেন।



ফেসবুক কর্নার