September 21, 2026, 10:46 pm

ছাত্রীকে আটকে নির্যাতনের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

ডি এম৷ রহিম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে প্রেমের সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার পর কয়েক দিন বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানায়, অপর আসামি কবির (৩০) পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের মো. জাহেদ আহমেদ (২৪), রাজনগর উপজেলার খারপাড়া গ্রামের রাজু আহমেদ (২২) এবং বাহাদুরগঞ্জ গ্রামের জুবেল মিয়া (৩০)। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুঠোফোনের মাধ্যমে জাহেদ আহমেদের সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে কৌশলে শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে বের করে মৌলভীবাজার শহরের চাঁদনীঘাট এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রাজনগরের বাহাদুরগঞ্জ এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে একটি বাড়িতে আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৩ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে তাকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় আটকে রাখার পর শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের একটি সড়কের পাশে তাকে রেখে অভিযুক্তরা চলে যায়। পরে স্থানীয়রা পরিবারের সদস্যদের খবর দিলে তারা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। মামলা দায়েরের পর কমলগঞ্জ থানার ওসি কমর উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এবং এসআই মোহাম্মদ আমির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশ জানায়, প্রায় ২০ ঘণ্টার অভিযানে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কলিমাবাদ ও গিয়াসনগর এবং রাজনগর উপজেলার গাঙপার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



ফেসবুক কর্নার