ঈদের ছুটিতে পর্যটকে মুখর বান্দরবান পর্যটনকেন্দ্রে ঢেউ লেগেছে
বান্দরবান —ঈদ মানেই আনন্দ, খুশি। আর এ আনন্দ ভাগাভাগি করতে সবাই ছুটে যান পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে। এবারের রমজানের ঈদে থাকছে লম্বা সরকারি ছুটি। ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আনন্দ দিতে প্রস্তুত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি বান্দরবান। ছুটিতে বান্দরবান দেখতে ছুটে আসছেন পর্যটকেরা। হচ্ছে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়। ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ভীড়ে মুখরিত হয়ে বান্দরবান। সবুজ পাহাড় আর নীল আকাশ দেখতে প্রকৃতি প্রেমী মানুষের ঢল নেমেছে জেলাটিতে। রমজানের কারণে দীর্ঘদিন পর্যটনকেন্দ্রগুলো ফাঁকা থাকলে ও এখন পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর পর্যটনকেন্দ্রগুলো। হোটেল-মোটেল আর রির্সোটগুলোতে বেড়েছে পর্যটকদের বাড়তি আনাগোনা। ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি আর বাঙ্গালীদের সহ অবস্থানসহ অসংখ্য পর্যটন কেন্দ্রে ঘেরা বান্দরবান জেলা, তাইতো যেকোন ছুটির বন্ধে বান্দরবানে ভ্রমন করতে আসে দেশের নানান প্রান্তের পর্যটকেরা। ঈদের এবারোর ছুটিতেও জেলার মেঘলা, নীলাচল, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, নীলগিরি, প্রান্তিক লেক, দেবতাখুম, ঝর্ণা,সাতভাইখুম,মাথাভরাখুম,ঋজুক ঝর্ণা,আমিয়াখুম জলপ্রপাত, ভেলাখুম,মিলনছড়ি,পিক ৬৯,ডিম পাহাড়, সহ বিভিন্ন পর্যটন বান্দরবান জেলার ৪৬টি দর্শনীয় স্পটগুলো এখন পর্যটকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে ওঠেছে। ঢাকা থেকে বান্দরবানের মেঘলা পর্যটন কেন্দ্রে বেড়াতে আসা পর্যটক- সাইদুল ইসলাম (দৈনিক সমকাল সার্কুলেশন ম্যানেজার) জানান, বান্দরবান খুবই সুন্দর জেলা আর ছুটি পেলেই আমি পরিবার পরিজন নিয়ে বান্দরবান ঘুরতে চলে যাই। দিনাজপুর জেলা থেকে বান্দরবানের নীলাচলে বেড়াতে আসা পর্যটক- অধ্যাপক জয়ন্ত রায় বলেন, বান্দরবান খুবই সুন্দর জেলা আর ছুটি পেলেই প্রথম ভ্রমন বান্দরবানেই করে থাকি । তিনি আরো বলেন, এর আগে কয়েকবার বান্দরবান এসেছি তবে পাহাড় ,নদী আর প্রকৃতির টানে বার বার ছুটে আসি বান্দরবান। নীলাচল পর্যটনকেন্দ্র ঘুরতে যাওয়া পর্যটক মো.শাহীন জানান, পাহাড় প্রকৃতি আর মেঘের অপরুপ জেলা বান্দরবান। বাংলাদেশে যে কয়েকটি পর্যটন এলাকা রয়েছে তার মধ্যে বান্দরবান অন্যতম। বিভিন্ন জাতিগোষ্টির বসবাস আর তার সাথে প্রকৃতির অপরুপ রুপ যে কাউকে সহজেই মুগ্ধ করে। এদিকে বিনোদন কেন্দ্রের পাশাপাশি জেলার হোটেল-মোটেলগুলোতে বেড়েছে পর্যটকদের সমাগম, আর পর্যটকদের সমাগম বাড়ায় ব্যবসায়ীকভাবে লাভবান হওয়ায় প্রত্যাশা করছে পর্যটন ব্যবসায়ীরা। বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সভাপতি মো.সিরাজুল ইসলাম জানান, ঈদুল ফিতরের বন্ধে বান্দরবানে পর্যটক এর আগমন বেড়েছে এবং বেশিরভাগ হোটেল-মোটেলে পর্যটক এর পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরো জানান, আমরা বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এর সকল সদস্যদের নিদের্শনা দিয়ে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত, যাতে বান্দরবানে বেড়াতে আসা পর্যটকরা যাতে পর্যাপ্ত সেবা পায়। বান্দরবানে ভ্রমনে আসা পর্যটকরা যেন নিরাপদে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ভ্রমন করতে পারে সেজন্য সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করেছে প্রশাসন। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক- শামীম আরা রিনি জানান, বেড়াতে আসা পর্যটকরা যাতে নিরাপত্তার সাথে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমন করতে পারে সেজন্য প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে আর পুলিশের পাশাপাশি ট্যুারিস্ট পুলিশের সদস্যরা ও নিয়মিত নিরাপত্তার জন্য কাজ করছে। বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল করিম জানান, ঈদের ছুটিতে বেশ পর্যটক আগমনে রয়েছে আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় টুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। পর্যটনকেন্দ্রের টিকিট কাউন্টার ইনচার্জরা জানান ‘ঈদের দিনে পর্যটনকেন্দ্রে প্রায় ৩০ হাজার পর্যটক এসেছে, যা আগামী কয়েকদিন আরও বাড়বে।’

আপনার অনুভূতি কী?






