খুলনায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী পলাশসহ গ্রেফতার ১১, অস্ত্র-গুলি উদ্ধার।
নুর মোহাম্মদ খান লিটু খুলনা —খুলনার বানরগাতি এলাকায় তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী পলাশ বাহিনীর সঙ্গে যৌথবাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন পুলিশ সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। অভিযানে পলাশ বাহিনীর প্রধান শেখ পলাশসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন— ১. শেখ পলাশ (প্রধান, মিন্ত্রীপাড়া) ২. রুবেল (ডালমিল রোড) ৩. কালা লাভলু (স্থানীয়) ৪. সৈকত রহমান (বানরগাতি) ৫. মহিদুল ইসলাম (বানরগাতি) ৬. গোলাম রব্বানী (বটিয়াঘাটা, সুরখালি) ৭. মোঃ আরিফুল (সুরখালি) ৮. মোহাম্মদ লিয়ন শরীফ (মুসলমানপাড়া) ৯. ইমরানুজ্জামান (বাগমারা মেইন রোড) ১০. ইমরান (নিরালা) ১১. ফজলে রাব্বি রাজন (রূপসা, বাগমারা) উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী অভিযানকালে উদ্ধার করা হয়েছে— তিনটি পিস্তল একটি একনলা শর্টগান একটি কাটা বন্দুক একটি চাইনিজ কুড়াল একটি চাপাতি কয়েক রাউন্ড গুলি সাতটি মোটরসাইকেল অভিযানের বিবরণ খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (সোনাডাঙ্গা জোন) মোঃ আজম খান জানান, রাত ১২টার দিকে পুলিশের কাছে খবর আসে যে, সোনাডাঙ্গা থানার বানরগাতি এলাকায় গাড়িচালক আব্দুর রহমান গাজীর বাড়িতে সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে। যৌথবাহিনী সেখানে অভিযান চালালে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। পাল্টা গুলিবর্ষণের পর ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয় এবং অস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। অভিযানে তিন পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য আহত হন। সরেজমিন পর্যবেক্ষণ অভিযানের পর সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বানরগাতি আরামবাগ এলাকার একটি নির্মাণাধীন একতলা ভবন এবং পাশের আরেকটি ভবনে সন্ত্রাসীরা আশ্রয় নিয়েছিল। সেখানে বেশ কয়েকটি খাবারের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়। নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা জানান, অভিযানে দুইজন সন্ত্রাসী পাশের পুকুরে ঝাঁপ দিলে সেখান থেকেই তাদের গ্রেফতার করা হয়। চার ঘণ্টার টানা অভিযানে পুরো এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়। পলাশ বাহিনীর অপরাধ কর্মকাণ্ড গ্রেফতারকৃত শেখ পলাশ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, অস্ত্রসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশকে ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তী পদক্ষেপ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সকাল ১০টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুরো অভিযানের বিস্তারিত জানানো হবে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।

আপনার অনুভূতি কী?






