অভয়নগরে ঈদ মেলায় ফুচকা খেয়ে শিশু-নারী পুরুষসহ অসুস্থ রোগীর সংখ্যা ২শত ছাড়িয়ে....

ক্রাইম রিপোর্টার—যশোরের অভয়নগরে ঈদ মেলায় ফুচকা খেয়ে শিশু- নারী-পুরুষসহ ২শতাধিক ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ১৮১ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। বাকিরা হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা ২নিয়েছেন। বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৮১ জনকে অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে সোমবার রাতে উপজেলার দেয়াপাড়া গ্রামে ভৈরব ব্রিজের পাড়ে ঈদমেলার একটি অস্থায়ী দোকানের ফুচকা খেয়ে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ ঘটনার পর থেকে ওই বিক্রেতা পলাতক রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খাবার প্রস্তুতে ত্রুটির কারণে একযোগে এত মানুষ পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও গর্ভবতী নারীসহ গুরুতর কিছু রোগী রয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আলীমুর রাজীব বলেন, খাবারে জীবাণু থাকার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বেশিরভাগ রোগীর পেটে ব্যাথা, বমি,পাতলা পায়খানা ও জ্বর দেখা দিয়েছে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ১৮১ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। জানা গেছে, প্রতিবছর ঈদের দিন ভৈরব নদের ব্রিজের পূর্ব পাশে হরেকরকম খাবারের দোকান বসে। গ্রামের আশপাশ ও দূর দুরান্ত থেকে শতশত মানুষ শিশুদের নিয়ে ভৈরব ব্রিজ দেখতে আসে। সোমবার ঈদের দিনও শতশত শিশু, নারী ও পুরুষ সেখানে এসেছিলো। রুপদিয়া এলাকা থেকে মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তি মেলায় অস্থায়ী ফুচকার দোকান দিয়েছিল। মেলায় বেড়াতে আসা অনেকেই ওই দোকানের ফুচকা খেয়েছিলো। ফুচকা খাওয়ার পর প্রায় সবার পেটে যন্ত্রণা, পাতলা পায়খানা, বমি, জ্বর ও খিচুনি শুরু হয়। এরপর অনেকে গভীর রাতে আবার কেউকেউ সকালে হাসপাতালে ভর্তি হন। তার পর থেকে এপর্যন্ত রোগী আসছে, এবিষয়ে ডাঃ রিজভী আহমেদ বলেন এই ঘটনায় রোগীর চাপ সামলাতে ডাক্তার, নার্সদের রিতিমত হিমসিম খেতে হচ্ছে, এপর্যন্ত ১৮১ জনকে ভর্তি করা হয়েছে, অনেকেই ছুটি নিয়ে বাড়িতে গেছে, গুরুত্বর ১৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড করা হয়েছে। আমরা ঈদের ছুটি বন্ধ করে সকলে দিনরাত অসুস্থ রোগীদের সেবায় নিয়জিত রয়েছি, পাশাপাশি কয়েকটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন এগিয়ে এসেছে সকলের প্রচেষ্টায় রোগীদের সেবা অব্যাহত রয়েছে। অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিম বলেন, আমরা ঘটনাটি শুনেছি। শোনার পর ফুসকা ব্যবসায়ীকে খুঁজছি। তার বাড়ি সদর উপজেলায় জেনেছি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়দেব চক্রবর্তী জানান, অভিযোগ পেয়ে আমরা তাৎক্ষণিক ভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি, এঘটনা সত্যি দুঃখ জনক, এবিষয়ে অভয়নগর উপজেলা প্রশাসন সর্বদা সজাগ রয়েছে, দোকানীকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে ভোক্তা অধিদপ্তর যশোর জেলায় দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বললে তিনি জানান এ ঘটনার বিষয়ে নিউজ দেখেছি, আমাদের জনবল কম, পাশাপাশি ঈদের ছুটি থাকায় তাৎক্ষণিক ভাবে যাওয়া সম্ভব হয়নি, বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখ জনক,আমি দ্রুতই অভয়নগরের বিষয় টি দেখছি।

Apr 2, 2025 - 18:44
 0  2
অভয়নগরে ঈদ মেলায় ফুচকা খেয়ে শিশু-নারী পুরুষসহ অসুস্থ রোগীর সংখ্যা ২শত ছাড়িয়ে....

আপনার অনুভূতি কী?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow