October 5, 2026, 12:01 am

বকশীগঞ্জে পাহাড়ের ঢালে শিমুল আলু চাষে সম্ভাবনার হাতছানি

মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সীমান্তঘেঁষা লাউচাপড়া-বালিঝুরি সুন্নাতপাড়া পাহাড়ি এলাকায় সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে চাষ হচ্ছে শিমুল আলু বা কাসাভা। ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের সুন্নাতপাড়া গ্রামের পাহাড়ের ঢালে কয়েক একর জমিতে কৃষকেরা এ ফসলের আবাদ করছেন। তুলনামূলক অনুর্বর ও পাহাড়ি জমিতেও কাসাভা চাষ করা যায় বলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ ফসল নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। স্থানীয় কৃষক সাগর খাগসী জানান, গত বছর অল্প জমিতে পরীক্ষামূলক চাষ করে ভালো ফলন পাওয়ায় এবার প্রায় দুই একর জমিতে কাসাভা আবাদ করেছেন। তাঁর মতে, সার ও কীটনাশক তুলনামূলক কম লাগায় উৎপাদন খরচও কম।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, পাহাড়ি ও অনুর্বর জমিতে প্রচলিত অনেক ফসল চাষে সমস্যা হলেও কাসাভা তুলনামূলক সহজে চাষ করা যায়। পরিচর্যা কম এবং রোগবালাই ও পোকার আক্রমণও তুলনামূলক কম হওয়ায় এ ফসলে সম্ভাবনা দেখছেন তাঁরা। কৃষক জসিম বলেন, পাহাড়ি জমিতে অন্যান্য ফসল ভালো না হলেও শিমুল আলু ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। কৃষক প্রবিদ জানান, বাজারজাতকরণে সহযোগিতা ও কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেলে এ অঞ্চলে কাসাভার আবাদ আরও বাড়তে পারে। কাসাভার কন্দ থেকে আটা, স্টার্চ ও শ্বেতসার তৈরি করা যায় এবং খাদ্য ও শিল্পক্ষেত্রে এর ব্যবহার রয়েছে।
বকশীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, কাসাভা তুলনামূলক কম উর্বর ও পাহাড়ি জমিতে চাষের উপযোগী একটি ফসল। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যার মাধ্যমে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, যেসব জমিতে প্রচলিত ফসলের আবাদ কঠিন, সেখানে বিকল্প ফসল হিসেবে কাসাভার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষক ভালো ফলন ও ন্যায্যমূল্য পেলে ভবিষ্যতে এ ফসলের আবাদ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। তবে কাসাভা খাওয়ার ক্ষেত্রে জাতভেদে সঠিকভাবে প্রক্রিয়াজাত করার প্রয়োজন রয়েছে। কৃষকেরা উৎপাদনের পাশাপাশি বাজারজাতকরণ, সংরক্ষণ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন



ফেসবুক কর্নার