
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। ব্যর্থ বাণিজ্যিক উদ্যোগ, স্বচ্ছতার অভাব, যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবলার ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়া শান্তি পুরস্কার নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। ইউরোপীয় ফুটবল কর্মকর্তাদের কেউ কেউ নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন। আগামী বছরের সভাপতি নির্বাচনে বিকল্প প্রার্থী দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন তাঁরা।
গত বৃহস্পতিবার ফিফা কাউন্সিলের সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠকে এসব বিতর্ক উঠে আসে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ প্রকল্পের ব্যর্থ উদ্যোগের জন্য ক্ষমা চান ইনফান্তিনো। তবে প্রকল্পটির আর্থিক কাঠামো, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। দুই মার্কিন আইনজীবীর উপস্থাপনা এবং প্রকল্পটি পর্যালোচনায় তাঁদের নিয়োগের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিশ্বকাপে লাল কার্ড দেখার পর বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের তদবিরের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন কাউন্সিল সদস্যরা। আগামী ১৬ ডিসেম্বর দোহায় পরবর্তী বৈঠকের আগে তথ্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইনফান্তিনো।
ট্রাম্পকে দেওয়া ফিফার শান্তি পুরস্কার নিয়েও মতভেদ রয়েছে। গত বছরের ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের হাতে ট্রফি, পদক ও সনদ তুলে দেন ইনফান্তিনো। তবে বিজয়ী নির্বাচনের প্রক্রিয়া প্রকাশ না করায় ফিফার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি ফিফার ফুটবল ও সামাজিক দায়বদ্ধতাবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বরের বৈঠকের আগে কমিটিকে সুপারিশ দিতে হবে। পুরস্কারের সংজ্ঞা পুনর্নির্ধারণ, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ সীমিত করা এবং বিজয়ী নির্বাচনে কঠোর মানদণ্ড চালুর প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক নেতাকে এমন পুরস্কার দেওয়া ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।