প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ: চিলড্রেন'স ভয়েস স্কুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

প্রতিবেদন নুর মোহাম্মদ খান লিটু খুলনা সম্প্রতি "ফার্স্ট নিউজ" নামক একটি অনলাইন পত্রিকায় খুলনার স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চিলড্রেন'স ভয়েস স্কুল এবং এর অধ্যক্ষ সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর ইসলাম। সরকারি বই বিতরণ নিয়ে বিভ্রান্তি প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মো. জাহাঙ্গীর ইসলাম বলেন, "আমরা সরকারি বিধি অনুযায়ী শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী শিক্ষা অফিস থেকে বই গ্রহণ করি এবং বিনামূল্যে বিতরণ করি। অতিরিক্ত বই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আর সরকারি বই দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হাস্যকর।" তিনি আরও বলেন, "কোচিংয়ে সরকারি বই বিতরণের যে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ স্কুল থেকে বিনামূল্যে বই পেয়ে থাকে। তাহলে তারা কোচিং থেকে বই সংগ্রহ করবে কেন?" স্কুলের শ্রেণি ও টিউশন ফি সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন সম্পর্কে জানানো হয়— প্রাথমিক পর্যায়ে মাসিক বেতন ৯০০ টাকা মাধ্যমিক পর্যায়ে মাসিক বেতন ১,০০০ টাকা প্রধান শিক্ষক জানান, "খুলনা শহরের বিভিন্ন মাদ্রাসায় যেখানে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত টিউশন ফি নেওয়া হয়, সেখানে আমাদের স্কুলের বেতন অনেক কম রাখা হয়েছে।" শিক্ষকদের বেতন ও নিয়োগ প্রক্রিয়া বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষক পাঠদান করেন এবং তাদের বেতন ৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত। মো. জাহাঙ্গীর ইসলাম বলেন, "আমরা সরকারি বিধি অনুযায়ী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করি এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ সম্পন্ন করি। এখানে কারও মূল সার্টিফিকেট জমা রাখা হয় না, শুধু ফটোকপি সংরক্ষণ করা হয়। এছাড়া, নিয়োগপত্র আটকে রেখে টাকা আদায়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।" বিদ্যালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন প্রসঙ্গে তিনি জানান, "আমাদের বিদ্যালয় প্রাথমিক পর্যায়ে অনুমোদিত এবং মাধ্যমিকের অনুমোদন মন্ত্রণালয়ের প্রথম ধাপ অতিক্রম করেছে। এটি বর্তমানে যশোর বোর্ডে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন থাকলে অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যায়।" যৌন হয়রানির অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ বিদ্যালয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, "আমাদের প্রতিষ্ঠানে কখনো এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে, নৈতিকতা ও প্রশাসনিক কারণে কিছু শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।" তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, "একজন শিক্ষিকা জাল সনদপত্র ব্যবহার করায় তাকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, এক শিক্ষক অর্থ আত্মসাৎ করায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। কিন্তু এটাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আমাদের স্কুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।" একাডেমিক সাফল্য ও বৃত্তি অর্জন বিদ্যালয়ের সাফল্য সম্পর্কে জানানো হয়— ২০১৮ সালে পিইসি পরীক্ষায় ৪৫ জন ও জেএসসি পরীক্ষায় ২৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। গত ১০ বছরে এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়নি এবং প্রায় ৫০% শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। স্কুলের জনপ্রিয়তা নষ্ট করতে অপপ্রচার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক বলেন, "চিলড্রেন'স ভয়েস স্কুল কখনো কোনো অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়নি। আমাদের জনপ্রিয়তা দেখে একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। আমরা তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।" মো. জাহাঙ্গীর ইসলাম প্রধান শিক্ষক চিলড্রেন'স ভয়েস স্কুল, খুলনা

মার্চ 17, 2025 - 22:31
 0  8
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ: চিলড্রেন'স ভয়েস স্কুলের বিরুদ্ধে অপপ্রচার

আপনার অনুভূতি কী?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow