দুদকের আশু হস্তক্ষেপ জরুরি কাস্টমস পরিদর্শকের কোটি টাকার অবৈধ সম্পত্তি!
যশোর প্রতিনিধি—কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ কুমিল্লায় পরিদর্শক পদে কর্মরত বেলায়েত হোসেন বিলুর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে যশোর শহরের বকচর এলাকায় ১০ শতক জমি ক্রয় করে দুটি বিশাল আলীশান বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান বাজারে প্রতি শতক জমির মূল্য সর্বনিম্ন ১৫ লাখ টাকা, অর্থাৎ ১০ শতক জমির মূল্য প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুটি জমির একটিতে ৪ তলা ভবন এবং অপর জমিতে ১ তলা ভবন নির্মাণ করেছেন তিনি, যার আনুমানিক ব্যয় প্রায় ৩ কোটি টাকা। যা তার বৈধ আয়ের সাথে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অর্থাৎ, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অবৈধ অর্থেই তিনি এসব সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এছাড়া, তার নামে-বেনামে আরও সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে—ঢাকা উত্তরায় একটি ফ্ল্যাট, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার রাজাপুর গ্রামে আরও সম্পদ। কাস্টমস পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন বিলুর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। জানা গেছে, বেলায়েত হোসেন বিলু একসময় যশোরে সিপাহী পদে চাকরি করতেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে কুমিল্লা কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগে পরিদর্শক হিসেবে যোগদান করেন। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাত থেকে বাঁচতে তিনি এসব সম্পদ স্ত্রীর নামে কিনেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, চার বছর আগে তিনি স্ত্রীর সোনার অলংকার বিক্রি করে জমি রেজিস্ট্রি করেছিলেন। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়াটা সন্দেহজনক। স্থানীয়দের ধারণা, তিনি হয়তো সোনা পাচারের সাথেও জড়িত থাকতে পারেন। তাই তারা দুর্নীতি দমন কমিশনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ বিষয়ে বেলায়েত হোসেন বিলুর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, তার স্ত্রী মালা বেগম দাবি করেন, এসব সম্পদ তার নামে এবং তার স্বামীর সাথে কোনো সম্পর্ক নেই। পরে তিনি প্রতিবেদককে ঘুষ দেয়ারও চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা মনে করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যদি যথাযথ তদন্ত করে, তবে বেলায়েত হোসেন বিলুর অবৈধ সম্পদের রহস্য উন্মোচিত হবে।

আপনার অনুভূতি কী?






