August 15, 2026, 4:58 pm
শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমার সরকারের বড় ঘোষণা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস: সাবেক আরএমওর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি জলিলসহ আটক ৪ ভ্রাম্যমাণ বইমেলার উদ্বোধন, পাঠাভ্যাস গড়তে নানা আয়োজন অনলাইনে আবেদনেই শিক্ষকদের অবসরের টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে পৌঁছাবে: প্রধানমন্ত্রী রিজভী-আমানসহ বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে যুক্ত হলেন ৪ নেতা আঠারো চূড়া বিলে ক্যাফে উদ্বোধন ঘিরে বিশৃঙ্খলা, তরুণকে আটকের অভিযোগ গ্যাস সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ভোগান্তি বাড়ছে ৫ টাকার মিনি প্যাকে তথ্যহীন বেবি সুইটস চানাচুর, খাদ্যমান নিয়ে প্রশ্ন নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে যুক্ত হচ্ছে আরও ৫০০ শয্যা, উদ্বোধন শনিবার

রাজধানীতে ড্রামভর্তি খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার: নৃশংস হত্যাকাণ্ডে তীব্র উদ্বেগ

Reporter Name

টি এম রবিউল ইসলাম, ঢাকা
রাজধানীর কেন্দ্রস্থল শাহবাগের মতো সংবেদনশীল এলাকায় ভয়াবহ এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। জাতীয় ঈদগাহের সামনের সড়ক থেকে বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় একটি নীল রঙের ড্রাম থেকে এক পুরুষের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি পুরো এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাইনুল ইসলাম খান জানান, “সন্ধ্যার কিছুক্ষণ আগে ড্রামটি উদ্ধার করা হয়। ভেতরে মাথাসহ কয়েকটি খণ্ডিত অংশ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি হত্যাকাণ্ডেরই ফল। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।”
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে একটি ভ্যানগাড়িতে করে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি এসে সড়কের পাশে ড্রামটি ফেলে যায়। প্রথমে কেউ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে স্থানীয়রা ড্রাম থেকে দুর্গন্ধ টের পেয়ে শাহবাগ থানায় খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ড্রাম খুলে টুকরো করা অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পায়।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডটি অন্য কোথাও সংঘটিত করে পরিকল্পিতভাবে মরদেহটি রাজধানীর ব্যস্ত এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়েছে, যাতে পরিচয় গোপন রাখা যায় এবং তদন্ত বিভ্রান্ত করা হয়। পুলিশ ইতিমধ্যে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছে।
শাহবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর, এবং এটি কমপক্ষে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা আগে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অনেকে এই ঘটনার সঙ্গে রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান ছিনতাই ও গুম-খুনের ঘটনাগুলোর যোগসাজশ থাকতে পারে বলে মনে করছেন। অপরদিকে, তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হত্যার ধরন দেখে মনে হচ্ছে এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত ও পেশাদারভাবে সংঘটিত অপরাধ।
একজন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “খণ্ডিত মরদেহ ফেলার ধরনটি অনেকটা অপরাধী চক্রের ‘সিগনেচার ক্রাইম’-এর মতো। এতে বোঝা যায়, হত্যাকারীরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় কাজটি করেছে এবং প্রমাণ মুছে ফেলতে সচেষ্ট ছিল।”
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জাতীয় ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, ভ্যানচালক শনাক্তকরণ, এবং সাম্প্রতিক নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য যাচাই করছে।
পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “আমরা ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”



ফেসবুক কর্নার