
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ৯ নম্বর শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম আর মজিবের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিয়েছেন স্বাক্ষরকারী নয় ইউপি সদস্য। একই সঙ্গে চেয়ারম্যানের প্রতি পুনরায় পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। এর ফলে পরিষদে তৈরি হওয়া উত্তপ্ত পরিস্থিতির আপাত অবসান হলেও অনাস্থা প্রত্যাহারের পেছনের কারণ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সচেতন মহলে নানা আলোচনা চলছে। গত ১৭ জুন আর্থিক অনিয়ম ও পরিষদের কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছিলেন নয়জন সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য। এতে ইউনিয়নজুড়ে উত্তেজনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয় অভিভাবক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে পরিষদের আয়-ব্যয়, সরকারি বরাদ্দ এবং বিভিন্ন উন্নয়নকাজের হিসাব পর্যালোচনা করা হয়। সদস্যদের দাবি, পর্যালোচনায় তথ্যের ঘাটতি ও পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি থেকেই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের সূত্রপাত হয়েছিল। পাশাপাশি ভূমি হস্তান্তর করের এক শতাংশ অর্থে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়নকাজের অস্তিত্ব সরেজমিনে পাওয়া গেছে বলেও তাঁরা জানান। ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রম সচল রাখা ও নাগরিক সেবা অব্যাহত রাখার স্বার্থে অনাস্থা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনের অনুলিপি চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
অনাস্থা প্রত্যাহারের আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, ২ নম্বরের লিটন মিয়া, ৪ নম্বরের সোহেল মিয়া, ৫ নম্বরের আহসান হাবীব, ৬ নম্বরের হুমায়ুন কবির শাহীন, ৭ নম্বরের মোহাম্মদ বশির, ৮ নম্বরের ইকবাল ইসলাম, ৯ নম্বরের মাসুদ মিয়া এবং সংরক্ষিত ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রোকসানা পারভীন। তবে হঠাৎ অবস্থান পরিবর্তনে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ১৭ জুনের অভিযোগগুলো যদি ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়ে থাকে, তাহলে এত দ্রুত কীভাবে তার সমাধান হলো—এ নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ কেউ রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনাও দেখছেন। ফলে অনাস্থা প্রত্যাহারের পর শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নাগরিক সেবা কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়, সেদিকেই এখন স্থানীয়দের নজর।