
ইসলামে মিথ্যা বলা নিন্দনীয় ও গোনাহের কাজ। তবে বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে শরিয়ত নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে মিথ্যা বলার অনুমতি রয়েছে। শান্তি প্রতিষ্ঠা, যুদ্ধের কৌশল এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা ও সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে এমন অনুমতির কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত স্বার্থে অন্যের অধিকার নষ্ট করা বা প্রতারণার সুযোগ নেই।
হজরত আসমা বিনতে ইয়াজিদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) তিন ক্ষেত্রে মিথ্যা বলার অনুমতির কথা বলেছেন—স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসার অভিব্যক্তি, যুদ্ধের কৌশল এবং মানুষের মধ্যে বিরোধ মীমাংসা। (তিরমিজি: ১৯৩৯; আবু দাউদ: ৪৯২১)। উম্মে কুলসুম (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসেও দুই ব্যক্তির মধ্যে সম্পর্ক ঠিক করতে ভালো কথা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এমন অনুমতির কথা এসেছে। (সহিহ মুসলিম: ২০৫৬)
আলেমদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মিথ্যা ছাড়া কোনো বৈধ ও প্রশংসনীয় উদ্দেশ্য অর্জন সম্ভব না হলে এবং এতে অন্যের ক্ষতি না হলে বিশেষ পরিস্থিতিতে অনুমতি প্রযোজ্য হতে পারে। জীবন রক্ষা বা বড় ক্ষতি থেকে বাঁচার মতো প্রয়োজনের কথাও কিছু আলেম উল্লেখ করেছেন। তবে প্রতারণা, অন্যের সম্পদ বা অধিকার নষ্ট করা কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থে মিথ্যা বলা এ অনুমতির আওতায় পড়ে না। তাই মিথ্যা বলার আগে বিকল্প কোনো সত্য পথ রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করা জরুরি।