
হজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। তবে হজ পালনের জন্য নিজের উপার্জিত অর্থ থাকা আবশ্যক কি না—এ নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, উপহার, হাদিয়া, অনুদান বা অন্যের বৈধভাবে দেওয়া অর্থে হজ পালন করলেও ফরজ হজ আদায় হয়ে যায়। নিজের সামর্থ্য না থাকলেও কেউ হজের খরচ উপহার হিসেবে পেলে তা দিয়ে হজ করলে সেটি ফরজ হজ হিসেবেই গণ্য হবে।
কারও নিজের হজের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্র তাকে হজের জন্য অর্থ দিলে সেই অর্থে হজ করলেও ফরজ আদায় হয়ে যাবে। পরবর্তীতে নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে আবার ফরজ হজ করার প্রয়োজন নেই। তবে অর্থ অবশ্যই বৈধ হতে হবে। একই সঙ্গে নিয়তের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে ফরজ হজের নিয়ত করে হজ করলে তা ফরজ হজ হিসেবে আদায় হবে। আর ইহরামের সময় স্পষ্টভাবে নফল হজের নিয়ত করলে সেটি নফল হজ হিসেবে গণ্য হবে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “সামর্থ্যবান মানুষের ওপর আল্লাহর জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা ফরজ।” (সুরা আলে ইমরান: ৯৭)। হজের সামর্থ্য অর্জিত হলে অযথা বিলম্ব না করে তা আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। তাই নিজের উপার্জিত অর্থ না থাকলেও বৈধ উপহার, অনুদান বা অন্যের দেওয়া অর্থে হজ পালনের সুযোগ হলে তা দিয়ে ফরজ হজ আদায় করা যায়। তবে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বা বিশেষ কোনো জটিলতা থাকলে অভিজ্ঞ আলেমের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।