October 27, 2026, 12:46 pm
শিরোনাম :
সাপ নিয়ে নাড়াচাড়া করবেন না, ছোবল দিয়ে মেরে ফেলবে’ শেখ হাসিনা ফিরলে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার হবে: উপদেষ্টা এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ ২৯ অক্টোবরের বদলে ৩১ অক্টোবর কুমিল্লায় পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি স্বাক্ষর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা চাইলেন জুবাইদা রহমান পদ্মা সেতু এক্সপ্রেসওয়েতে অ্যাম্বুলেন্স-ট্রাক সংঘর্ষে আহত ১ ৭১ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৬টিতে নেই নিয়মিত প্রধান শিক্ষক পরকীয়ার অভিযোগে স্ত্রীকে প্রভাবিত করার দাবি গোবিন্দর বাদীকে হুমকির অভিযোগে তানজিন তিশাকে আদালতে হাজিরার নির্দেশ

৭১ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৬টিতে নেই নিয়মিত প্রধান শিক্ষক

সাব্বির কাজী, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। উপজেলার ৭১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ১৫টিতে। বাকি ৫৬টি বিদ্যালয়ে নেই নিয়মিত প্রধান শিক্ষক। এর মধ্যে ২৩টি বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা চলতি দায়িত্বে এবং ৩৩টি বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে প্রশাসনিক কাজের চাপ বাড়ার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে গিয়ে তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। দাপ্তরিক কাজ ও বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম সামলাতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকস্বল্পতার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

ফুলখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাঃ সুবর্ণা বেগম বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। তাই বাধ্য হয়ে আমাকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজও সামলাতে হয়। এসব কাজের কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হয়।”

নয়া ভাংগুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ লিমন আনসারী বলেন, “রাঙ্গাবালী উপজেলার ৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নেই। সহকারী শিক্ষকদের প্রশাসনিক দায়িত্ব ও পাঠদান একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।”

শিক্ষকস্বল্পতায় ব্যাহত পাঠদান

প্রধান শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি কয়েকটি বিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষকেরও সংকট রয়েছে। কোনো শিক্ষক দাপ্তরিক কাজে বিদ্যালয়ের বাইরে গেলে অন্য শিক্ষকদের একাধিক শ্রেণির পাঠদান সামলাতে হয়। এতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি শ্রেণির পাঠদান বন্ধ রাখার পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে।

চর বেষ্টিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ রাজিব মিয়া বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। অথচ কর্মরত আছি মাত্র তিনজন শিক্ষক। এর মধ্যে আমি প্রায় দেড় বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছি। কোনো কারণে একজন শিক্ষক বিদ্যালয়ের বাইরে থাকলে বাকি দুজনকে দুটি শ্রেণিতে পাঠদান করাতে হয়। এতে একটি শ্রেণির পাঠদান বন্ধ থাকে এবং নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।”

চর হালিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ জাকির হোসেন দুলু বলেন, “প্রধান শিক্ষক সংকটের কারণে শিশুদের যথাযথভাবে পাঠদান করানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে দাপ্তরিক কাজ, অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান—দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা কঠিন হচ্ছে। দ্রুত এ সংকট নিরসনে সরকার ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”

চতলাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ ওবাইদুল ইসলাম বলেন, “ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করতে গিয়ে শিশুদের পাঠদান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যেসব বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, সেসব বিদ্যালয়ে দ্রুত স্থায়ীভাবে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।”

দ্রুত নিয়োগের দাবি অভিভাবকদের

চর হালিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী জানায়, প্রধান শিক্ষক না থাকায় তাদের বিদ্যালয়ে ঠিকমতো ক্লাস হয় না। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের দাবিও জানায় সে। একই বিদ্যালয়ের এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। এতে সন্তানদের পড়ালেখায় ঘাটতি হচ্ছে। সরকারের কাছে দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হোক।”

এ বিষয়ে পটুয়াখালীর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাসুদ করিম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে মামলাজনিত কারণে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমান সরকার মামলাগুলোর সমাধান করেছে। আমরা খুব দ্রুত পদোন্নতির মাধ্যমে শূন্য পদগুলো পূরণ করব। এ জন্য গ্রেডেশন তালিকাসহ পদোন্নতিসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা হবে।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ জরুরি। তাই শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক নিয়োগেরও দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।



ফেসবুক কর্নার